হাতের কাছেই রয়েছে মহৌষধি, জেনে নিন মধুর ১০টা গুণ

চাক ভাঙা গরম মধুর স্বাদ অনেকেরই শৈশবের সুখস্মৃতি। এই মধুতেই মানুষ প্রথম মিষ্টির স্বাদ পেয়েছিল। মধুর ব্যবহারও তাই সভ্যতার সমান পুরনো। কিন্তু ‌যাঁরা ভাবেন মিষ্টি মানেই বিপদ, তাঁদের ধারণা ভাঙবে এবার। মধু ‌যে শুধু সুস্বাদুই নয়, সঙ্গে ‌যে তার কত গুণ জেনে নিলে এখুনি বাড়িতে এনে রাখবেন বোতলভর্তি।

মধুর নানা গুণ

১. ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধক

মধুতে থাকে ফ্ল্যাভনয়েডস ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। ‌যা বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।

২. আলসার ও পরিপাকতন্ত্রের অন্যান্য জটিলতায় উপকারী

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে মধু আলসার ও ব্যাক্টেরিয়াল গ্যাস্টএন্ট্রাইটিস প্রতিরোধ করে।

৩. অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণ ‌যুক্ত

মধুর মধ্যে হাইড্রোজেন পারক্সাইড তৈরির জন্য একরকম উৎসেচক ‌যোগ করে মৌমাছিরা। ‌যার ফলে মধুতে কখনো ব্যাক্টেরিয়া বা ফাঙ্গাস বাসা বাঁধতে পারে না। ফলে মধু বছরের পর বছর তাজা থাকে।

৪. পরিশ্রম করতে সাহা‌য্য করে

প্রাচীন কালে অ্যাথলিটরা প্রতি‌যোগিতায় নামার আগে মধু খেতেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে মধু শরীরে গ্লাইকোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে খুব কা‌র্যকরী।

৫. সর্দি – কাশি ও গলা খুশখুশে কাজ দেয়

পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে বিশেষ কয়েকটি ধরনের মধু কাশির ওষুধের সমান কা‌র্যকরী।

৬. ভারসাম্য রক্ষা

আ‌য়ুর্বেদিক শাস্ত্রেও মধুর ব্যবহারের উল্লেখ মেলে। ৪,০০০ বছরের পুরনো সেই শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে শরীরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সাম্য রক্ষা করে মধু। সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে, ওজন কমাতে, শীঘ্রপতন, মূত্রনালির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ডায়েরিয়াতেও কা‌র্যকরী মধু।

শরীরের পেশির গভীরতম অংশেও পৌঁছে ‌যায় মধু। অন্য জড়িবুটির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে তার গুণ আরও বাড়ে। ‌যেমন তুলসি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কাশি প্রতিরোধে আরও কা‌র্যকরী হয়ে ওঠে মধু।

৭. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহা‌য্য করে

মধুতে থাকে প্রাকৃতিক চিনি। ‌যা কৃত্রিম চিনির মতো রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। বরং ফ্রুকটোজ় ও গ্লুকোজ়ের সঠিক সাম্য রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করে। বেশ কয়েকধরণের মধুর শর্করা তেমন ভাবে রক্তে মেশেই না।

৮. ক্ষত মেরামতি

পুড়ে বা ছরে গেলে মধু লাগিয়ে দ্রুত আরোগ্য পাওয়া সম্ভব। মধুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ ক্ষতস্থানকে দূষিত হতে দেয় না। শর্করার জলশোষণের গুণ ক্ষতকে ক্রমশ শুকিয়ে সুস্থ করে তোলে।

৯. মধুতে বন্ধু ব্যাক্টেরিয়া থাকে

বেশ কয়েকধরণের মধুতে বন্ধু ব্যাক্টেরিয়া থাকে। এই ব্যাক্টেরিয়াগুলি শরীরের জটিল সব রোগ সারাতে সাহা‌য্য করে।

১০. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

মধুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ ত্বকের জন্যও উপকারী। এছাডা় মধু ত্বকের আর্দ্রতা ও পুষ্টি বজায় রাখতে সাহা‌য্য করে।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন